একটি পাঙ্গাশ মাছের গল্প।
একটি পাঙ্গাশ মাছের গল্প।
আমি আনন্দ!
জন্ম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ১০ নং হলতা গুলিশাখালী গ্রামে।
পরিবারে মা, বাবা, ছোট বোন আর আমি।
বাবা রাজমিস্ত্রীর কন্টাক্টর। মা গৃহিণী। আমি আর বোন লেখাপড়া করি।
খুব সাজানো গোছানো বা "সহজ" পরিবার আমাদের।
বাবা-মায়ের খুব আদুরে আমি ও বোন।
বাবা,মা খুব কষ্ট করে পরিবারটিকে সাজিয়েছে।
বাবা-মা, আমাকে কখনো পরিবারের অভাব বুঝতে দেয়নি।
"কোন কিছু চাওয়ার আগেই সেটা আমি পেয়েছি"।
যাইহোক পাঙ্গাশ মাছের দিকে যাওয়া যাক ;-
ছোট থেকেই কোন বেলায় মাছ ছাড়া ভাত খেতাম না, ঐ যে বললাম না খুব আদুরে ছিলাম বাবা-মায়ের তাদের যতই কষ্ট হোক না কেন আমাকে তারা বুঝতে দিতো না। তবে সবারই একটা পছন্দের মাছ থাকে, ঘরে যদি ইলিশ মাছ ও যদি রান্না করা হয় তার পর ও সেটা যদি তার পছন্দের মাছ না হয় সে খেয়ে তিপ্তি পাবে না এটাই স্বাভাবিক।
আমারও মাছের মধ্যে ২/৩ টা মাছ পছন্দের তালিকায় আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে "পাঙ্গাশ মাছ"!।
কারন এই মাছ কাঁটা ছাড়া মাছ।
খেলাটা এখান থেকেই শুরু --
আমার বয়স যখন ১১/১২ তখন থেকেই আমি বাজারে যেতাম, সাধারণত আমারা যারা গ্রামে থাকি তাদের ঘরে কাজের লোক থাকে না। তাই বাবা নয়তো পরিবারের ছেলেরাই বাজার-ঘাট করে আর_কি।
তাই বাবাও বাজার করতো আর সময় পেলে আমিও বাজার করতাম আর_কি।
'আমি যখন বাজারে যেতাম ইলিশ মাছও যদি কিনি তারপরও পাঙ্গাশের কাছে আমি যাবোই'
আর পাঙ্গাশ ছিলো আমার পছন্দের মধ্যে একটি তাই আমি প্রায়ই কিনতাম।
আর পাঙ্গাশ মাছ হলো একটি সহজলভ্য মাছের মধ্যে একটি, দামেও কম আর পাওয়াও যায় সবসময়।
কিন্তু সমস্যাটা হলো এখানেই,-
আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা হল “একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে বাঁচে”।
মানে একে অপরের খোঁজখবর নেয় প্রতিদিন, “খুব ভালো”। কিন্তু কিছু লোক এতটাই খোঁজখবর নেয় যা ধারনার বাইরে, যেমন তারা অন্যের খোঁজখবর এতটাই নেয় যে অন্যের ব্যক্তি জীবনের ভিতরে ঢুকে পড়ে। আমি যখন বাজার থেকে পাঙ্গাশ মাছ কিনতাম তখন অনেকেই আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে ও একজন কন্টাক্টরের ছেলে হয়েও পাঙ্গাশ মাছ কিনতেছে কাহিনী কি?!।
একটু খারাপ ভাষায় বলি, আমাদের চেয়ে যারা খারাপ অবস্থানে আছে তারাও ঐ সময় বাজার থেকে পাঙ্গাশ মাছ কিনতো না, কারন তাদের মানসম্মান যাবে।
কিন্তু তারা তাদের পুকুরে পাঙ্গাশ মাছ চাষ করে বিক্রি করার জন্য না, তাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করার জন্য। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে বাজার থেকে কিনতে পারতো না,তাই বলে যে তারা চড়া দামে ইলিশ কিনতো তা কিন্তু নয়, বাজার থেকে তারা গুশা চিংড়ি কিনে নিয়ে আসতো।
কারন পাঙ্গাশ মাছ হচ্ছে গরিবের মাছ।
“বলদ” “ছলদ”
মানে প্রচন্ড শীতে কাঁপতেছেন গরম পোশাক কেনার টাকা নাই ঠিক-ই খালি গায় আপনি ছিটিগোল্ড এর ৫ টাকা দামের হীরার আংটি হাতে দিয়ে হাঁটতেছেন, অন্যকে দেখাতে হবে তো আমার হাতে হীরার আংটি আছে, আমি অনেক বড়লোক, বদল বা নিচু মানসিকতার মানুষ আরকি।
যাই হোক সময়ের বিবর্তনে দেশ বা বিদেশে জিনিস পত্রের দাম অনেক বেড়েছে। তাই অনান্য মাছের সাথে সাথে পাঙ্গাশ মাছের দামটাও একটু বেড়েছে এখন আমি বাজারে যাই এবং খেয়াল করি যারা আগে পাঙ্গাশ মাছের চারপাশেও যেতো না তারা এখন পাঙ্গাশ মাছ কিনতেছে। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম মাছ কিনছেন? সে বলে কিনছি তো পাঙ্গাশ মাছ কিনছি, আমি তো রীতিমত অবাক। মাছ বাজারে গিয়ে দেখলাম পাঙ্গাশ মাছের দাম এখন ২০০ টাকার আসেপাশে। আমি বুঝতে পারলাম পাঙ্গাশ মাছের তাইলে সম্মান এখন কিছুটা হলেও বাড়ছে। যেসব লোক আগে পাঙ্গাশ মাছ কিনতো না পেচটিচ যাবে বলে, তারাও এখন পাঙ্গাশ মাছ কিনছেন এবং গর্বের সাথে অন্যকে বলতেছে, বাহ্ বাহ্।
আসলে পাঙ্গাশের দাম বৃদ্ধের পেছনে এদের মতো নিচু মন মানসিকতার লোকজনেরাই দায়ী।
কারণ ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন যে পাঙ্গাস মাছের দাম যদি অল্প টাকায় বিক্রি করি তাহলে তাদের বিক্রি মন্দা যাবে। এই মাছের দাম যদি বৃদ্ধি করা হয় তাহলে এই মাছ সবাই কিনবে। তাই তারা বুদ্ধি করে পাঙ্গাস মাছের দাম কিছুটা বাড়িয়েছেন। মাছ ব্যবসায়ীদের আমি সাধুবাদ দিচ্ছি যে এই দাম অটুল থাকুক।
আমার এই গল্পটি পড়ে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি তাদেরকে বলবো,
আমার কিছু করার নাই। আপনাদের একটা কথাই বলতে চাই। জীবনটা আপনার, কে কি বলতেছে ওই দিকে না তাকিয়ে আপনি আপনার সততাকে বজায় রেখে বা আপনার আদর্শ নির্দ্বিধায় কাজ করে যান।
আপনার মন মানসিকতা সুস্থ রাখুন। সমাজ বদলে যাবে। আপনি সমাজকে যতটুকু দেবেন আপনি ততটুকুই ফেরত পাবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে 🙏🙏
Comments
Post a Comment